জীবন রক্ষাকারী ওষুধ সাধারণ মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে পৌঁছাতে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি (বাপি)। একই সঙ্গে দেশের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদনের দায়িত্ব সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডকে (ইডিসিএল) দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
গত সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাপি কার্যালয়ে ‘ঔষধ শিল্পের অগ্রগতি: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এসব দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে।
সভায় বাপির নেতারা বলেন, ওষুধের দাম একতরফাভাবে বেঁধে দিলে অনেক কোম্পানিই উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। এর ফলে বাজার থেকে অনেক প্রয়োজনীয় ওষুধ হারিয়ে যেতে পারে, যা চিকিৎসাক্ষেত্রে মারাত্মক সংকট তৈরি করবে।
নেতারা উল্লেখ করেন, দেশের মোট চাহিদার ৯৮ শতাংশ ওষুধ দেশীয় কোম্পানিগুলো সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু বর্তমানে গ্যাসের সংকট এবং কাঁচামাল ও প্যাকেজিং সামগ্রীর দাম বৃদ্ধির কারণে প্রতিনিয়ত এই খাত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। এ অবস্থায় ওষুধের দাম নির্ধারণের আগে খাতসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়ার জোর দাবি জানান তাঁরা।
বেসরকারি কোম্পানিগুলোর পক্ষে অনেক অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদন করে বাজারে টিকে থাকা বর্তমানে কঠিন হয়ে পড়েছে বলে সভায় জানানো হয়। বক্তারা বলেন, এসব ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহে সরকারি প্রতিষ্ঠান ইডিসিএলকে আরও বড় ভূমিকা দেওয়া উচিত।
সভায় বাপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডেল্টা ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. জাকির হোসাইন বলেন, ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সব সময় বাজারে ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত মজুত ও সহজলভ্য থাকা প্রয়োজন। জনগণের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।’
বাপির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ হালিমুজ্জামান বলেন, ‘সময়ের চাহিদা অনুযায়ী অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এসব ওষুধের মান নিশ্চিত করে তা সাধারণ জনগণের নাগালের মধ্যে রাখতে হবে।’
সভায় আরও বক্তব্য দেন বাপির সিনিয়র সহসভাপতি ও ইউনিমেড ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান মো. মোসাদ্দেক হোসেন এবং বিএইচআরএফের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভসহ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
